বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদকে নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ !

500
Print Friendly, PDF & Email

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হ’ত্যাকা’ণ্ডে অংশ নেয়া খু’নি ক্যাপ্টেন (বরখা’স্ত) আবদুল মাজেদের ফাঁ’সি কা’র্যকর হয়েছে শনিবার (১১ এপ্রিল ২০২০) দিনগত রাতে। এদিকে জানা গেছে, খু’নি মাজেদ এতদিন আ’ত্ম’গো’পন করেছিলেন ভারতের প’শ্চিমব’ঙ্গ রাজ্যের কলকাতায়। কলকাতার গণমাধ্যম বর্তমান পত্রিকার এক প্রতিবেদনে জানা যায়, পার্কস্ট্রিটে বসবাস করতেন খু’নি মাজেদ। মাজেদের ছবি বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেখে অবাক হয়েছে সেই মহল্লার বাসিন্দারা।

আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) প্রকাশিত হয়েছে সেই প্রতিবেদনটির ২য় পর্ব। এই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, অজ্ঞা’ত পরিচয় কয়েকজন তুলে নিয়ে গিয়েছিল বঙ্গবন্ধুর খু’নি মাজেদকে। এক ঝলক দেখলে যে কেউ ভুল করে তাদের কাবুলিওয়ালা ভাববেন। ষ’ণ্ডা’মার্কা চেহারা। গালে ঘন কালো চাপ দাড়ি। ব্যাক ব্রা’শ করা চুল। একজনের পরনে ডেনিম জিন্স আর নীল ফুল হাতা টি-শার্ট। অ’ন্যজনের গায়ে বড় চেক শার্ট। দু’জনের হাতেই মোবাইল ফোন। কলকাতা বিভিন্ন স্থা’নে পাওয়া সিসিটিভির ফুটেজে নাকি এমনই দেখা গেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সিসিটিভির ফুটেজ ঘেঁ’টে দেখা যাচ্ছে, ২২ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা ৪ মিনিটে বেডফোর্ড লেনের ভাড়া বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর একটি ওষু’ধের দোকানে গিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর খু’নি আব্দুল মাজেদ। সেখানে মিনিট আটেক কাটানোর পর ঠিক ১০টা ১২ মিনিটে যখন রিপন স্ট্রি’টের দিকে মুখ করে ফের পথ চলতে শুরু করেন, তখন থেকেই তাকে অনুসরণ করা শুরু করে ওই দুই ব্যক্তি। পরে তাদের সঙ্গে আরও দু’জন যোগ দেন।

মোট চারজন সেদিন পিছু নিয়েছিলেন মাজেদের। সিসিটিভি’র ফুটেজে সবার ছবিই ধরা আছে। তদন্তে নেমে পুলিস ও এসটিএফ-এর অফিসাররা পিছু নেওয়া ওই ষ’ণ্ডামার্কাদের কাবুলিওয়ালা ভেবে প্রথমে ভুল করেছিল। মাজেদ ছোটখাট সু’দের কারবারও চালাতেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলিমুদ্দিন স্ট্রিট ধরে এসে রাস্তা পার হয়ে এজেসি বোস রোডে আসেন মাজেদ। উদ্দেশ্য, বাস ধরা। গন্তব্য পিজি হাসপাতাল। এর পরের ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, ওই চারজন মাজেদের স’ঙ্গে কথা বলছে। তবে ক্যা’মেরা উন্নত না হওয়ায় কী কথা হয়েছিল, তা শোনার উপায় নেই। ঠিক তখনই মৌলালির দিক থেকে আসা একটি স’ল্ট’লেক-সাঁতরাগাছি রুটের বাসে উঠতে দেখা যায় মাজেদকে। যথারীতি সেই বাসে চাপেন ওই চারজনও। এরপর আর কোনও ফুটেজ নেই। তদন্তে নেমে পুলিশ এজেসি বোস রোডের প্রতিটি সিসিটিভি ক্যা’মেরার ফুটেজ দেখেছে। তবে, আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের বাস স্টপ থেকে পিজি হাসপাতাল পর্যন্ত কোথাও বাস থেকে নামতে দেখা যায়নি আব্দুল মাজেদকে। প্রতিবেদনে বলা হয়, কেন্দ্রীয় গো’য়েন্দা সংস্থার এক সূত্র জানিয়েছে, মাজেদের মোবাইলের সর্বশেষ টাওয়ার লোকেশন ছিল মা’লদহ। যা থেকে গো’য়ে’ন্দাদের অনুমান, মাজেদকে ঘুরপথে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল হা’ওড়া স্টেশনে। সেখান থেকে ট্রেনে প্রথমে গু’য়াহাটি। পরে শিলং হয়ে ডাওকি সীমা’ন্ত পেরিয়ে বাংলাদেশ যান তিনি। তবে তিনি স্বে’চ্ছায় গিয়েছিলেন, নাকি বা’ধ্য করা হয়েছিল, তা নিয়ে স’ন্দে’হ আছে। মনে করা হচ্ছে, ট্রেন মালদহ স্টেশনের আশপাশে থাকাকালীন তিনি তার মোবাইলটি একবার অন করেছিলেন।

বর্তমান পত্রিকা প্রশ্ন তোলে, সিসি ক্যা’মেরায় ধরা পড়া ওই চারজন কারা? তারা কি বাংলাদেশের কোনও গো’য়েন্দা এজে’ন্সির অফিসার? প্রতিবেদনটিতে দাবি করা হয়েছে, কলকাতা পুলিশের অ’জা’ন্তে কে বা কারা তুলে নিয়ে গেছে মাজেদকে। আইনত কোনও বিদেশি গো’য়ে’ন্দা এজেন্সি বিনা অনুম’তিতে অন্য দেশে ঢুকে অভিযান চালাতে পারে না। বাংলাদেশ সরকারিভাবে ৭ এপ্রিল জানিয়েছে, করোনার ভয়েই মার্চ মাসের শেষদিকে ভারত থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন ব’ঙ্গ’বন্ধুর পলাতক খু’নি। বাংলাদেশের কাউ’ন্টার টের’রিজমের গো’য়ে’ন্দারা তাকে মিরপুর থেকে গ্রে’প্তার করে। প্রতিবেদনটিতে আরো দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের এই যুক্তি তেমন জো’রালো নয়। কারণ ভারতে প্রথম করোনা আ’ক্রা’ন্তের খোঁজ মেলে ৩০ জানুয়ারি। তাও আবার দক্ষিণ ভারতের রা’জ্য কেরালায়। কিন্তু বঙ্গ’বন্ধুর খু’নি লুকিয়ে ছিলেন কলকা’তায়। এখানে করোনা ধরা পড়ে ১৮ মার্চ। ফলে ২২ ফেব্রুয়ারি মাজেদ কলকাতা থেকে বাংলাদেশে যাবেন কেন?

কলকাতায় বসে সু’দের ব্যবসা করতেন খু’নি মাজেদ!

বঙ্গ বন্ধুর আ’ত্মস্বী’কৃত খু’নি ক্যা প্টেন (বরখা’স্ত) আব্দুল মাজেদ ভারতের কলকাতায় দীর্ঘ দিন আলী আহমেদ পরিচয়ে লু’কিয়ে ছিলেন। খু’নি মাজেদ কলকাতায় বসে সু’দের ব্যবসা করতেন। এছাড়া টি উশনি করিয়েও সং সার চালাতেন। সেখানে তাঁর ভারতীয় পাসপোর্ট ছিল। তাঁর চেয়ে বয়সে ৩২ বছরের ছোট স্থা’নীয় এক না’রীকে বি য়ে করেছিলেন। সেই স্ত্রী’র ঘরে তাঁর ছয় বছর বয়সী এক ক’ন্যা’সন্তা নও আছে। কলকাতার ‘বর্তমান’ পত্রিকায় প্রকাশিত সুজিত ভৌমিকের তিন পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদন ‘ঘা তকের ডেরা’র দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্বে এ তথ্য উঠে এসেছে।

১১ এপ্রিল শনিবার রাতে ঢাকায় খু’নি মাজেদের মৃ’ত্যুদ’ণ্ড কার্য’কর হওয়ার পর বুধবার প্রকাশিত শেষ পর্বের প্রতিবেদনের শিরোনাম ‘রোজ দেশে ফোন করাই কা’ল হল মাজেদের’। সেখানেই তাঁর সুদে’র ব্যবসার কথা উঠে এসেছে।গোয়ে’ন্দারা জানতে পেরেছেন, এমনিতে সু’দের কারবার ও টিউশনির টাকায় সংসার চললেও সম্প্রতি তালতলা এলাকায় ২৫ লাখ টাকা দিয়ে একটি ফ্ল্যাট বুক করেছিলেন মাজেদ। গোয়ে’ন্দারা মনে করছেন, সম্ভ’বত বাংলাদেশ থেকে টাকা আসত মাজেদের কাছে। কিন্তু সেই ফ্ল্যাটে আর পা দেওয়া হল না তাঁর। তার আগেই ফাঁ’সিকাঠে নিথর হলেন তিনি।

কলকাতায় থাকা অবস্থায় প্রতিদিন দুটি নম্বর থেকে নিয়মিত ফোন করে বাংলাদেশে কথা বলতেন খু’নি আবদুল মাজেদ। নম্বর দুটি হলো +৮৮০১৫৫২৩৮৭৯১৩ ও +৮৮০১৭১১১৮৬২৩৯। প্রতিবেদনের শেষ পর্বে এসে প্রতিবেদক সুজিত ভৌমিক বলছেন, স’বত বাংলাদেশে নিয়মিত ফোন করতে গিয়েই ধরা পড়েছেন মাজেদ।

বর্তমান পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের কে’ন্দ্রীয় গোয়ে’ন্দাদের অনুমান, বাংলাদেশে থাকা মাজেদের পরিবারের সদ’স্যদের ফোনে নিয়মিত আ’ড়ি পাততো গো’য়েন্দারা। ফলে মাজেদ কোথায় লু’কিয়ে রয়েছে, সেই তথ্য সহজেই জেনে যায় তারা। এরপরই তাকে গ্রেফ’তারের ব্লু-প্রি’ন্ট তৈরি হয়।

বর্তমান পত্রিকায় বলা হয়ছে, কলকাতা শহরে মাজেদের অব’স্থান জানতে খুব স’ম্ভবত ভারতের কোনও গো’য়েন্দা সং’স্থার সাহায্য নিয়েছিলেন বাংলাদেশের গোয়ে’ন্দারা। যদিও এ নিয়ে দুই দেশের কেউই আ’নুষ্ঠা’নিকভাবে কিছু জানায়নি। তদ’ন্তে জানা গেছে, কলকাতায় মাজেদ যে দুটি মোবাইল ফোন ব্যবহার করতো, তার একটিও নিজের নামে ছিল না, স্ত্রীর নামে ছিল।