করোনা ভাইরাসঃ যা সক্রিয় করা হয় যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণাগারে!

366
Print Friendly, PDF & Email

যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (চ্যাপেল হিল) সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ড. রালফ ব্যারিক ২০১৫ সালের নভেম্বরে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছিলেন ‘নেচার মেডিসিনে’। সেখানে তিনি চীনের ঘোড়া বাদুড়ের লালা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে এক ধরনের করোনাভাইরাসকে সক্রিয় করে তা নিয়ে গবেষণা করেছিলেন, যার বৈজ্ঞানিক নাম দেন এসএইচসি-০১৪। এ গবেষণার কারণ জানিয়ে সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক ফ্রান্সিস কলিন্স বলেছিলেন, অণুজীবের মাধ্যমে জৈব নিরাপত্তা এবং সতর্কতামূলক বিষয়গুলোকে আরও সুদৃঢ় করতেই এ ধরনের গবেষণায় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। গবেষণাগারের প্রকৌশলবিদ্যা ব্যবহার করে ভাইরাসটির সংক্রমণ ক্ষমতার বিচিত্র কয়েকটি দিক নিয়ে গবেষণা করা হয়েছে।
নেচার মেডিসিনে সেই গবেষণাপত্র প্রকাশ হওয়ার পরই এ ধরনের গবেষণার মারাত্মক পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন অণুজীব বিশেষজ্ঞ রিচার্ড এডব্রাইট। ২০১৫ সালের নভেম্বরেই দ্য সায়েন্টিস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, এ ধরনের বিপজ্জনক গবেষণার ফলে কোনো কারণে ভাইরাসটি গবেষণাগার থেকে পালিয়ে লোকালয়ে চলে আসতে সক্ষম হলে এটা মানব জাতি এবং অন্য অনেক প্রাণিকুলের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। কারণ এটা যখন প্রকৃতিতে অন্য কোনো পোষকদেহে নির্জীব অবস্থায় থাকে, তখন তার সক্রিয় হওয়ার ঝুঁকি কম। তবে এটি গবেষণাগারে সক্রিয় করার পর একবার যদি মানুষে সংক্রমিত হয়, তাহলে সেটা নির্জীব থাকবে না, প্রাণঘাতী ভয়ংকর অস্ত্রের মতোই আঘাত করবে। তিনি এটাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন, ২০০৩-০৪ সালে সার্স ভাইরাসের মারাত্মক রূপ দেখার পর স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তার বিষয়টি প্রাধান্য দিয়ে এ ধরনের ভাইরাস নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিশেষায়িত গবেষণার জন্য অর্থ বরাদ্দ স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। অতএব এখন এ ধরনের বিপজ্জনক গবেষণা চলতে পারে না। রিচার্ড এডব্রাইটের এই বক্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট এ গবেষণায় অর্থ বরাদ্দ স্থগিত করে।
গত ২২ ফেব্রুয়ারি সেই এসএইচসি-০১৪কেই আজকের কভিড-১৯ উল্লেখ করে নিজের ওয়েবসাইটে (দ্য সাদ ওলসোন শো) একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পুরস্কার এডওয়ার্ড মিউরোপ্রাপ্ত সাংবাদিক সাদ ওলসোন। তিনি নর্থ ক্যরোলিনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাওয়া বিস্তারিত তথ্য-প্রমাণ উল্লেখ করে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার ভয়ংকর বিপজ্জনক গবেষণায় অর্থ বরাদ্দ প্রত্যাহারের পরও ড. রালফ ব্যারিক থেমে থাকেননি। তিনি তার গবেষণার নমুনা নিয়ে চীনের উহানে ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজিতে (বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অণুজীব গবেষণাগার) যান। সেখানে তার গবেষণার পরবর্তী অধ্যায়ও চলতে থাকে। সেই গবেষণারই একটি ভয়ংকর পরিণতি এখন বিশ্ব ভোগ করছে বলে নিজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন স্বাস্থ্য খাত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম সেরা সাংবাদিক সাদ ওলসোন। তিনি তাই স্পষ্ট করেই বলেছেন, কভিড-১৯-এর জন্ম নর্থ ক্যারোলিনা ইউনিভার্সিটির গবেষণাগারে, পাঁচ বছর পর যেটি ছড়িয়েছে চীনের উহান থেকে।
উহানের ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি জীবাণু অস্ত্রের বড় পরীক্ষাগার বলেও খ্যাত। জীবাণু অস্ত্রের বিপজ্জনক গবেষণা করতে গিয়েই এক মুহূর্তের অসতর্কতায় করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে গবেষণাগার থেকে লোকালয়ে, এরই মধ্যে এমন তথ্যও এসেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে। তবে চীনা কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত সাদ ওলসোনের প্রতিবেদনের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। প্রতিবেদনটি যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক গণমাধ্যমসহ ব্লগ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লেও যুক্তরাষ্ট্র এ প্রতিবেদন নিয়ে কোনো বক্তব্য দেয়নি।

তথ্য- ইন্টারনেট