করোনা এড়াতে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা

455
Print Friendly, PDF & Email

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে আপাতত দুই সপ্তাহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামীকাল ১৭ মার্চ থেকে আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত স্কুল-কলেজ, মাদরাসাসহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা।  আজ ১৬ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে  এ সিদ্ধান্ত হয়।  মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

এদিকে গত রোববার সকালে দেশে করোনা ভাইরাস আক্রান্তের প্রেক্ষাপটে সব স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ চেয়ে হাইকোর্ট রিট করা হয়েছে। এ রিটে দেশের স্থল-নৌ এবং বিমানবন্দরও বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই স্কুল-কলেজসহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের দাবি উঠেছিল। গতকাল দুই জন এবং আজ দুই জন শিশুসহ আরো তিন জনের করোনা আক্রান্তের খবর প্রচারের পর দেশে উৎকণ্ঠার আর উদ্বেগের প্রেক্ষিতে আজকের মন্ত্রীপরিষদ সভা এই ছুটি ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেয়। মন্ত্রীপরিষদ সভা শেষে শিক্ষা মন্ত্রী ড. দ্বীপু মনি এক সংবাদ ভাষ্যে বলেন,  কাল থেকে সকল (প্রাথমিক থেকে উচ্চ শিক্ষা) শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আগামী ৩১ মার্চ ২০২০ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। পূর্ব ঘোষিত সকল অনুষ্ঠানমালা স্থগিত করা হলেও প্রতিষ্ঠান প্রধান এবং শিক্ষক-মণ্ডলী মিলে জনসমাগম ছাড়াই বৃক্ষরোপন কর্মসূচি অব্যহত রাখবেন।

এদিকে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড পরিচালিত শর্টকোর্স ( বেসিক ও এডভান্সড)  উপ-পরিচালক ড. ইন্দ্রানী ধরের সাথে আলাপকালে তিনি জানান সকল শর্ট কোর্স প্রতিষ্ঠানের জন্যও সরকারি এ ঘোষণা প্রযোজ্য হবে। তিনি প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কাছে বৃক্ষরোপনের কর্মসূচিকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এগিয়ে নিতে অনুরোধ করেন।

বাংলাদেশ বেসিক ট্রেড শিক্ষক সমিতির সভাপতি এম.এ জব্বার হাওলাদার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, সকল শর্ট কোর্স প্রতিষ্ঠান  সরকারি এ ঘোষণা বাস্তবায়নের জন্য একাডেমিক কায্যক্রম বন্ধ এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কাছে বৃক্ষরোপন কর্মসূচিকে পালনের জন্য অনুরোধ করছি। এ বিষয়ে শর্ট কোর্স প্ররিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান প্রধানদের আরোকটি সংগঠন বিটিটিআরএ-এর সভাপতি মোঃ মোদাচ্ছের হোসেন সিরাজীর মতামত জানতে চাইলে তিনি -‘বিষয়টি সংগঠনে আলোচনার পর জানানো যাবে’ বলে জানান। তবে তিনি ব্যক্তিগতভাবে সরকারের এ সিদ্ধান্তের সাথে সহমত।

জন্স হপকিন্স ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর সিস্টেমস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসএসই)-এর তথ্য অনুযায়ী, সোমবার পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৬ হাজার ৫১২ জনের। আর মোট আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ১ লাখ ৬৯ হাজার ৩১৬ জনে। এদের মধ্যে ৭৭ হাজার ২৫৭ জন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন।