মানুষের পাশে গণস্বাস্থ্যের বিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার শীল

416
Print Friendly, PDF & Email

 

বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার শীল। বিশ্বব্যাপী মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া নতুন করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) পরীক্ষার সহজ ও স্বল্পমূল্যের পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন। বিশ্বব্যাপী যখন করোনাভাইরাস মোকাবিলায় রোগ শনাক্তে কিট সংকটে ভুগছে তখন বাংলাদেশি এই বিজ্ঞানী মানুষের পাশে দাঁড়ালেন। তিনি ঘোষণা দিলেন, তার উদ্ভাবিত পদ্ধতিতে মাত্র ৫ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে শনাক্ত করা যাবে করোনাভাইরাস সংক্রমণ হয়েছে কি না। এতে খরচ পড়বে ৩০০-৩৫০ টাকার মতো। সরকার যদি এর ওপর ট্যাক্স-ভ্যাট আরোপ না করে তাহলে ২০০-২৫০ টাকায় বাজারজাত করা যাবে। তার গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। এর প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। ড. বিজনের নেতৃত্বে এই গবেষণা টিমে রয়েছেন ড. নিহাদ আদনান, ড. মোহাম্মদ রাঈদ জমিরউদ্দিন ও ড. ফিরোজ আহমেদ। ২০০৩ সালে যখন সার্স ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দিয়েছিল তখন বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার শীল সিঙ্গাপুর গবেষণাগারে কয়েকজন সহকারীকে নিয়ে সার্স ভাইরাস দ্রুত নির্ণয়ের পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। এটা একটা ভিন্ন পদ্ধতি। এর নাম হলো : ‘র‌্যাপিড ডট ব্লট’। এই পদ্ধতিটি ড. বিজন কুমার শীলের নামে পেটেন্ট করা। পরে এটি চীন সরকার কিনে নেয় এবং সফলভাবে সার্স মোকাবিলা করে। তারপর তিনি সিঙ্গাপুরেই গবেষণা করছিলেন ডেঙ্গুর ওপরে। গবেষণা চলাকালে তিনি দুই বছর আগে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগ দেন।

তিনি যখন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগ দেন, তখন তিনি ডেঙ্গু নিয়ে কাজ করছিলেন। ব্লাড গ্রুপ যে পদ্ধতিতে চিহ্নিত করা হয় এটা মোটামুটি সে রকমের একটি পদ্ধতি। এ প্রসঙ্গে আলাপচারিতায় ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানালেন, গত বছরের ডিসেম্বরে চীনে যখন নতুন করোনাভাইরাস দেখা দিল তখন তিনি আমাদের বললেন, এটা (নতুন করোনাভাইরাস) হলো সার্সে রূপান্তরিত রূপ। এটা ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করবে। তিনি এটা বুঝতে পেরেছিলেন। তখন আমরা কেউ চিন্তা করি নাই করোনাভাইরাস এমন হতে পারে। তিনি তখন বলেছিলেন, করোনাভাইরাস নিয়ে আমাদের গবেষণা করা দরকার। তিনি আমাদের গণবিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিক্যালের প্রধান বিজ্ঞানী। সাভারে আমাদের ক্যাম্পাসেই থাকেন। তিনি গত দুই মাসে করোনার গবেষণা পারফেক্ট করেন। এই পদ্ধতিতে ৫ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে অত্যন্ত স্বল্পমূল্যে করোনাভাইরাস শনাক্ত করা যাবে। তিনি বলেন, প্রচলিত কিট যেটা ব্যবহৃত হচ্ছে সেটা খুবই ব্যয়বহুল। এ জন্য একটা দামি যন্ত্র প্রয়োজন হয়। সেই যন্ত্র সব মেডিকেল কলেজে নেই। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ৩টা আছে। সারা দেশে এই যন্ত্র খুব বেশি নেই। আইইডিসিআরের কাছে একটা যন্ত্র আছে। এ কারণে তারা এখন পর্যন্ত মাত্র ২৬৮ জনের করোনা পরীক্ষা করতে পেরেছে। অথচ আমাদের পরীক্ষা করা উচিত ছিল হাজার-হাজার।

এখন সবকিছু নির্ভর করছে সরকারের মর্জির ওপর। ডেঙ্গু টেস্টের যেমন মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছিল করোনা টেস্টেরও যদি মূল্য নির্ধারণ করে দেয় তাহলে জনগণ স্বল্প মূল্যে সেবা পাবে। মূল্য নির্ধারণ না করে দিলে যে যার যার মতো টাকা নেবে। আমরা মাসে এক লাখ কিট সরবরাহ করতে পারব। তবে সবকিছু ঠিক থাকলে প্রাথমিকভাবে এ মাসে ১০ হাজার কিট সরবরাহ করতে পারব। আরও একটি খুশির সংবাদ হলো : আমেরিকার একটি বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান আমাদের জানিয়েছে, তা

রাও আমাদের সঙ্গে উদ্ভাবিত এই ‘র‌্যাপিড ডট ব্লট’ উৎপাদন করতে চান। এ কথা ড. বিজন কুমার শীলকে তারা জানিয়েছেন।

গোটা বিশ্বের এ মহামারী সনাক্তের জন্য যখন মূল্যবান শত শত কোটি টাকা ব্যয় হবে, তখন সল্প মূল্যের এ আবিষ্কার বাংলাদেশ তথা বিশ্বের কাছে আশির্বাদ স্বরূপ ।

বিজ্ঞানীর ড. বিজন কুমারঃ-

ড. বিজন কুমার শীল, একজন ভেটেরিনারিয়ান, একজন প্রাণি চিকিৎসক। উনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ থেকে ডক্টর অফ ভেটেরিনারি মেডিসিন ডিগ্রি তে (ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট), এমএসসি (ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট) ইন ভাইরোলজি তে উচ্চ শিক্ষা গ্রহন করে ইউনিভার্সিটি অব সারে , ইংল্যান্ড থেকে পিএইচ ডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

এক সময় বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (বিএল আর আই) এ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে চাকুরি জীবন শুরু করেন। কিন্তু ঐ যে কথায় বলেনা, ‘দেশে মেধার মূল্যায়ন নেই‘ । পরবর্তীতে উক্ত প্রতিষ্ঠানের কিছু দুষ্ট কর্মকর্তার সাম্প্রদায়িক ষড়যন্ত্রে চাকরি ছেড়ে দিয়ে সিংগাপুরে চলে যান, জয়েন্ট করেন সিংগাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষক হিসাবে। এরপর ঐ চাকরি ছেড়ে জয়েন করেন এমপি নামক একটা বায়োলজিকস আমেরিকান কোম্পানিতে, ওটার মালিক ছিলেন যুগোস্লাভিয়ার একজন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট। এরপর নিজেই বায়োলজিক্যাল রিয়েজেন্ট তৈরি ও ব্যবসা শুরু করেন। সম্প্রতি তিনি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগ দেন মাইক্রোবায়োলজি ডিপার্টমেন্টে। সেখানে তিনি শিক্ষকতার পাশাপাশি মনযোগ দেন গবেষণায়।

১৯৮৫/৮৬ সালে দেশে ছাগলের মড়ক লেগেছিল । তখন উনি পিপিআর ভ্যাকসিন আবিষ্কার করেন । পরবর্তীতে গোট প্লেগ টিকা আবিষ্কার করে সেরা বিজ্ঞানী হিসেবে জাতীয় কৃষি (স্বর্ণ) পদক পেয়েছিলেন ।

তিনি অসাধারণ একজন মেধাবী মানুষ।

– তথ্যসূত্রঃ অনলাইন