করোনা থেকে বাঁচতে হলে বদলে ফেলুন নয় অভ্যাস

296
Print Friendly, PDF & Email

বিশ্বব্যাপী এখন আতঙ্কের নাম করোনা ভাইরাস। প্রাণঘাতী এই ভাইরাস ইতোমধ্যে বিশ্বের ১৯৫টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। এই ভাইরাসে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ৩ লাখ ৮২ হাজার ৮ জন। মৃত্যু হয়েছে ১৬ হাজার ৫৫৮ জনের। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে ইতালিতে। সেখানে মৃত্যু হয়েছে ৬ হাজার ৭৭ জনের। তার আগে চীনের উহান প্রদেশে তাণ্ডব চালায় করোনা। সেখানে প্রাণ হারায় ৩ হাজার ২৭৭ জন।

এমতাবস্থায় সারা বিশ্বেই চরম আতঙ্কের মধ্য দিয়ে দিন পার করছে । এই ভাইরাসের জেরে ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা। বাংলাদেশেও এরই মধ্যে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে শিক্ষপ্রতিষ্ঠান, দোকানপাট ও গণপরিবহন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে যাওয়া ঠেকাতে কিছু অভ্যাসের পরিবর্তন জরুরি। আর এসব অভ্যাস পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে নিজের যেমন ঝুঁকি কমে, অন্যরাও ঝুঁকি থেকে বাঁচে।

হাত মেলানো
দিনের পর দিন করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আক্রান্ত হওয়া থেকে বাঁচতে অন্যের সঙ্গে হাত মেলাতে নিষেধ করেছে বিশেষজ্ঞরা। কারণ, হাত মেলানোর ফলে জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে।

সামাজিকতা পরিহার
রেস্টুরেন্ট, নাইট ক্লাব, চার্চ, মসজিদ, বিয়ের অনুষ্ঠান কিংবা শেষকৃত্যে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। প্রতিদিন বাইরে যেভাবে ঘুরে বেড়াতেন, সেটাও কমিয়ে নিয়ে আসতে হবে। সেহেতু সামাজিকতা রক্ষা করতে গিয়ে বিপাকে পড়া থেকে বিরত থাকাই উচিৎ।

টাকা লেনদেন
টাকা লেনদেনের মাধ্যমে কিন্তু হাতে জীবাণু লেগে যায়। প্রয়োজনে টাকা স্পর্শ করলে হাত ধুয়ে ফেলতে হবে। তবে নগদ টাকা ছাড়া কার্ড কিংবা অনলাইনে পেমেন্ট করা ভালো।

অফিসে যাওয়া
বিভিন্ন দেশে স্কুল কলেজের পাশাপাশি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সরকার সকল সরকরি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে আগামী ২৬ মার্চ  থেকে ৪ এপ্রিল পর্য ন্ত ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।  তাই ঘরে বসে অফিসের জরুরী  কাজ করার কথা বলা হচ্ছে।

জীবাণুমুক্ত থাকা
নিজে সর্বোচ্চ পর্যায়ের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার অভ্যাস করতে হবে। হাত ধোয়ার সময় সাবান কিংবা হ্যান্ডওয়াশ ব্যবহার তরতে হবে। পানি না থাকলে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা যাবে।

চলাচলে নিয়ন্ত্রণ
চীনে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়তেই উহান শহর লকডাউন করে দেওয়া হয়। পরে পুরো চীন লকডাউনে চলে যায়। ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে বিভিন্ন দেশ সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে। এরকম পরিস্থিতিতে নিজেদের অবাধ চলাচল নিয়ন্ত্রণে নিতে সরকার গণপরিবহণ বন্ধ করতে যাচ্ছে।

খরচ কমানো
সারাবিশ্বের বিভিন্ন খাত করোনা ভাইরাসের কারণে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। বহু মানুষ বেকার হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে ঘরে বসে থাকতে হচ্ছে মানুষজনকে। সবমিলিয়ে বৈশ্বিকভাবে অর্থনৈতিক মন্দার শঙ্কা রয়েছে। এমতাবস্থায় খরচ কমানোর বিকল্প নেই। প্রয়োজনীয় সামগ্রী, খাবার এবং জীবাণু থেকে বাঁচার সরঞ্জাম কিনতে হবে। বাড়তি বাড়তি খরচ এখন না করাই ভালো।

অনলাইনে কেনাকাটা
কেনাকাটার জন্য শপিংমলে না গিয়ে অনলাইনেই কাজটি সেরে নিতে পারেন। এতে করে জনসমাগম যেমন এড়ানো যাবে, ঘরে বসেই ডেলিভারি পাবেন। সেই সঙ্গে দেশের ই-কমার্স কিছুটা গতি পাবে। যদিও এই সেবা এখনও শহর কেন্দ্রীক।

চিকিৎসা নেওয়া 
অনেকেই একেবারে খারাপ পরিণতি হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার ব্যাপারে উদাসীনতা দেখান। এটা করবেন না। আবার হালকা সমস্যা হলেই হাসপাতালে দৌড় দেবেন না। বিষয়টি সুচিন্তিতভাবে ভেবে দেখুন। তারপরই সিদ্ধান্ত নিন। আইইডিসিআরের হটলাইন নম্বর ০১৯৪৪৩৩৩২২২ ছাড়াও করোনা বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কল সেন্টার ১৬২৬৩ ও ৩৩৩–এ যোগাযোগ করা যাবে।