করোনা নিয়ন্ত্রণে সশস্ত্রবাহিনী মাঠে নামল আজ

288
Print Friendly, PDF & Email

দেশে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আজ থেকে মাঠে নামছে সশস্ত্রবাহিনী। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুবিধার্থে তারা স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা করবে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সশস্ত্রবাহিনী মাঠে থাকবে। একই সঙ্গে সরকার আগামী ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ১০ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। সরকারি-বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকলেও এই সময়ে হাসপাতাল, ফার্মেসি, খাদ্যপণ্যের দোকান ও কাঁচাবাজার খোলা থাকবে। আর সব কিছু বন্ধ থাকবে। দেশবাসীকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কোনোভাবেই বাসা-বাড়ির বাইরে বের না হতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গণপরিবহন এড়িয়ে চলার জন্য জনগণকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সশস্ত্র বাহিনীর রেকী

সশস্ত্র বাহিনী আজ মঙ্গলবার সারা দিন রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে কোথায় কোথায় ক্যাম্প স্থাপন করা যায়, তা খতিয়ে দেখবে। আর যেসব স্থান থেকে সেনানিবাসের দূরত্ব কম, এমন জায়গা ক্যাম্প স্থাপন করা হবে না। এসব খতিয়ে দেখা শেষ হলে আগামীকাল বুধবার থেকে সশস্ত্র বাহিনী মাঠে নামতে পারে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ ইবনে জায়েদ।

কর্নেল আবদুল্লাহ ইবনে জায়েদ বলেন, সশস্ত্র বাহিনী ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। তারা বিভিন্ন জায়গাতে রেকি ও পর্যবেক্ষণ করছে। আজ সারা দিন এ কাজ চলবে। আগামীকাল সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, কোথায় কোথায় ক্যাম্প প্রয়োজন, তা দেখা হচ্ছে। যেসব স্থান থেকে সেনানিবাসে ফিরে আসা সহজ বা কম দূরত্বের, সেখানে ক্যাম্প করা হবে না। সেখানে সেনানিবাস থেকেই টহলে যাবেন সেনাসদস্যরা।

সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে আজ থেকে সশস্ত্র বাহিনী নিয়োজিত করার সিদ্ধান্ত জানায় সরকার। বলা হয়, এ সময় বিদেশ থেকে ফিরে আসা ব্যক্তির অবস্থান নির্ণয় ও তাঁদের নিজ নিজ অবস্থানে কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করাই হবে সশস্ত্র বাহিনীর মূল লক্ষ্য। গতকাল সোমবার আইএসপিআর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ লক্ষ্যের কথা বলা হয়। গত রাতে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সশস্ত্র বাহিনীর গৃহীত কার্যক্রমের বর্ণনা দেওয়া হয়।

এর আগে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোয় সামাজিক দূরত্ব এবং সতর্কতামূলক ব্যবস্থার জন্য বেসরকারি প্রশাসনকে সহায়তা দিতে সশস্ত্র বাহিনী নিয়োজিত হওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান। বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোয় সামাজিক দূরত্ব ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থার জন্য বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দিতে সশস্ত্র বাহিনী নিয়োজিত হবে।