বিপন্নদশায় জেলার আড়াই হাজার ডেয়ারী ফার্ম

দেশের দুগ্ধচাষীদের বাঁচান!

436
Print Friendly, PDF & Email

করোনা সংকটে আজ দেশ। মানুষকে বাঁচাতে সরকার দেশের সমগ্র অঞ্চল লক-ডাউন ঘোষণা করেছেন। চলছে না স্থানীয় গণপরিবহন, আন্তজেলা পরিবহন তো আগেই বন্ধ। করোনার আতঙ্কে হুমকীর মুখে সাতক্ষীরা জেলার সাথে দেশের সমগ্র দুগ্ধফার্ম। কৃষকের মাথায় হাত!

সাতক্ষীরা পৌরসভায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১২০০ দুগ্ধ খামার নিয়ে জেলায় প্রায় ২.৫ হাজার খামারী জেলার চাহিদা দুগ্ধ পূরণ করে ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলে দৃগ্ধ ও দুগ্ধজাত খাদ্য সামগ্রী সরবরাহ করে আসছে।

জেলার উৎপাদিত দুধ চারটি দুগ্ধ-প্রক্রিয়াকরণ প্রতিষ্ঠান সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে দুগ্ধ সংগ্রহ করে থাকে। প্রাণের ৫টি, ব্রাকের-১৭টি, মিল্ক ভিটার- ২টি এবং আকিজের ৩টি চিলিং সেন্টারে পাস্তুরাইজ হয়ে তরল দুধ দেশের সমগ্র অঞ্চলে সরবরাহ হয়ে থাকে।

জেলার পাইওনিয়ার খ্যাত দুগ্ধ-খামারী শংকর ঘোষ বলেন, জেলার উৎপাদিত দুধের ১.৫ লক্ষ লিটার দুধ ছানা এবং ননি (মাখন বা ঘি)  তৈরীর সক্ষমতা আছে খামারীদের। ওই ছানা-ননি প্রতিদিন ঢাকার পরিবহনযোগে ঢাকায় পাঠানো হয়। কিন্তু পরিবহন বন্ধ থাকায় সেই দুধ নষ্ট হচ্ছে কিম্বা খামারীরা উপায়হীন হয়ে নামমাত্র মূল্যে কোন কোন ক্ষেত্রে ফ্রিতে বিলি করতে বাধ্য হচ্ছে।

শালখের ডাঙ্গার খামারী নিত্যানন্দ বৈরাগী বলেন, দুধ বেঁচতে পারছিনে, নষ্ট হচ্ছে। অথচ গরুর খাবার তো যোগাতে হচ্ছে! অবোলা প্রাণিকে তো আর কষ্ট দেয়া যাবে না! ওদিকে গরুর খাবার যোগাড়ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সরকার আমরাদের দিকে না তাকালে, কোন বিকল্প উপায় না হলে- আমরা তো ধনে-প্রাণেই মারা যাবো!

সাতক্ষীরা ২৫ লক্ষ মানুষের সাথে দেশের চাহিদা পূরণের জন্য জেলার সমগ্র অঞ্চলে যে ছোট ছোট দৃগ্ধ খামার গড়ে তুলেছিল ক্ষদ্র উদ্যক্তাগণ তা আজ দেশে দ্বিতীয় বৃহত্তম দৃগ্ধ সরবরাহকারী জেলায় উন্নীত হয়েছে। দুগ্ধ উৎপাদনে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ির পর সাতক্ষীরা জেলার অবস্থান। তাই এই মাহামারীর সময়ে ওই সব খামারীদের বাঁচাতে প্রশাসন সহায়তার হাত বাড়াবে প্রত্যাশা জেলান সাধারণ জনগণের।