গঙ্গাতীর্থ হরিদ্বারের অমৃতকথা – নিত্যানন্দ সরকার
- আপডেট সময় : ০৪:৩০:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬ ১৪ বার পঠিত

ভারতবর্ষের অন্যতম প্রাচীন পবিত্র তীর্থস্থান হরিদ্বার (Haridwar)। পতিতপাবনী গঙ্গা এখান থেকেই হিমালয় ছেড়ে সমতলে দক্ষিণবাহী হয়েছে। গাড়োয়াল হিমালয়ের প্রবেশদ্বার হলো হরিদ্বার। শৈবভক্তদের কাছে এটি হরদ্বার নামেও পরিচিত। আপনি ধর্মপ্রাণ হন কি প্রকৃতিপ্রেমিক, হরিদ্বার দিয়েই উত্তরাখণ্ডের যেকোনো জায়গায় আপনাকে যেতেই হবে। ভারতবর্ষের বিখ্যাত চারধাম যাত্রার (কেদারনাথ, বদ্রীনাথ, গঙ্গোত্রী ও যমুনেত্রী) শুরু হয় এই হরিদ্বার থেকেই। বরফের আউলি কিম্বা ফুলের দেশ ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার হোক বা চিরাচরিত দেরাদুন-মুসৌরি-ধনৌলটি সব রুটের বেস পয়েন্ট কিন্তু হরিদ্বার। আবার প্রতি ১২ বছর অন্তর পূর্ণকুম্ভ এবং ৬ বছর অন্তর অর্ধকুম্ভের মেলা হয়, এই হরিদ্বারকে কেন্দ্র করেই। তাই হরিদ্বার একবার নয়, বারবার আসতে হয় এবং হবেও।
২০২২ সালে কেদারনাথ যাত্রায় অংশ নেয়ার আবাল্যের শুপ্ত ইচ্ছা পূরণ করতে আমি ৬ মে হরিদ্বারে পৌছাই। ভারী তুষারপাতের কারণে কেদারনাথ যাত্রায় প্রস্তুতি ও যাত্রা ব্যবস্থাপনায় সাময়িক বিঘ্ন হয়েছিল সে বছর। তীর্থযাত্রী, ভক্ত এবং পর্যটকদের জন্য কেদারযাত্রা সম্ভব্য দিন পিছানোর গুঞ্জন কানে এসেছিল। কিন্তু ততদিনে সব প্রস্তুতি তো শেষ! তবুও তাই যাত্রার ক্ষীণ আশা নিয়ে অন্যান্য যাত্রীদের সাথে আমিও হাওড়ার ট্রেনে চেপে বসেছিলাম ঠিক সময়ে। কিন্তু উত্তরাখণ্ড সরকার ও কেদারযাত্রা নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত কেদারযাত্রার রেজিস্ট্রেশন পাশ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। আর আমিও ততক্ষণে ভগ্নহৃদয়ে হরিদ্বারে পা রাখলাম। তারপর পতিতপাবনী গঙ্গা এবং হর কি পৌরির অনুপম সৌন্দর্যে আমার সব অপূর্ণতার ঝাঁপি কানায় কানায় ভরে উঠলো। আমি নিজেকে ভাসিয়ে দিলাম শ্রদ্ধালু আর পর্যটদের জনসমুদ্রে।
পরের বছর ২৪ আগস্ট ২০২৩ তারিখে দূর্গাপূজার ছুটির অবকাশে স্বস্ত্রীক আবারও পৌছে যাই পবিত্রভূমি হরিদ্বারে। ২৫-২৬ আগস্ট ছিল আমাদের কেদারযাত্রার নির্ধারিত দিন। তখনও বর্ষায় ভূমিধ্বসের সম্ভাবনার ঝুঁকি বিদ্যমান ছিল। সে কথা মাথায় রেখেও ২৬ আগস্ট পৌছে যাই বাবা কেদারনাথের পূর্ণভূমিতে। কেদার-বদ্রীযাত্রার সে গল্প অন্য সময় হবে। আজ শুধু ২৪, ৩০ ও ৩১ আগস্ট- যে তিন দিন আমরা হরিদ্বারের পার্থিব-অপার্থিব সৌন্দর্য উপভোগ করার সুযোগ পেয়েছিলাম, সে অভিজ্ঞতা থেকে কিছু কথা শেয়ার করার লোভ সামলাই কেন!
হরিদ্বারের দর্শনীয়
গঙ্গার ঘাটে সন্ধ্যা আরতি
হরিদ্বারের প্রধান আকর্ষণ গঙ্গা এবং হর কি পৌরি ঘাট। আরও নির্দিষ্ট করে বললে, বিশ্ব বিখ্যাত “হর কি পৌড়ি” ঘাটে গঙ্গা দর্শন। এই ঘাটকে ঘিরেই পূণ্যার্থীদের সারা দিনময় যত কর্মব্যস্ততা। ঘাটের পাশেই নানান মন্দির, দিনভর পুজোপাঠ, গঙ্গাস্নান- সব সময় জমজমাট। তবে হর কি পৌরি ঘাটের আসল সৌন্দর্য্য বিকেলের পর থেকেই শুরু হয়। বেনারসের মতো এখানেও বছরজুড়ে প্রতিদিন মা গঙ্গার সামনে সন্ধ্যা আরতি হয়। এই ঘাটের সন্ধ্যা আরতি এক অন্যতম দর্শনীয় বিষয়, যার টানে লক্ষ লক্ষ মানুষ, পুণ্যার্থী এবং পর্যটক হর কি পৌড়ি ঘাটে ছুটে আসে।
এই ঘাটে আছে হরিদ্বারের ল্যাণ্ডমার্ক একটি সুউচ্চ ঘড়ি স্তম্ভ। এছাড়া গঙ্গা দেবী, বদ্রীনাথ, ও লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দির। ভোর থেকে হর কি পৌরি ঘাট, বিষ্ণুঘাট, সুভাষ ঘাট ইত্যাদিতে গঙ্গাস্নান পবিত্রজ্ঞান করা হয়। গঙ্গার প্রবল স্রোতে মানুষ যাতে ভেসে না যায়, তাই এখানে স্নানের সুবিধার্থে মজবুত লোহার শিকল বাঁধা থাকে। এখানে সন্ধ্যাবেলায় গঙ্গায় প্রদীপ ভাসানোর প্রথা আছে। গঙ্গার স্রোতে যখন একসাথে অনেকগুলো প্রদীপ ভেসে যায়, দেখতে দারুন লাগবে।
আমরাও দু’জন ভিড়ের ফাক গলিয়ে একটু জায়গা করে নিলাম ক্লক-টাওয়ারের কাছাকাছি। হাজার জনতার চিৎকার আর জয়ধ্বনীর মাঝে শুরু হলো সন্ধ্যা আরতী। সব ঠিকঠাকই চলছিল, মাঝে বেরসিকের মতো আরতীর মাঝে বিরতী টেনে ভক্তদের কাছ থেকে পণামী সংগ্রহের ডামাডোল। অনেকটা ছন্দপতন হলেও ভক্তদের উৎসাহের কমতি ছিল না। গঙ্গা আরতী ও স্রোতে প্রজ্বলিত প্রদীপ ভাসানো এক অপার্থিব অনুভূতি ছুঁয়ে যাচ্ছিল প্রাণের গহীণে।
উল্লেখ্য শুকন মৌসুমে হর কি পৌরি ঘাটের স্রোতধারা স্বাভাবিক রাখতে শহরের প্রবেশের উজানে প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
হরিদ্বারের মন্দির সমূহ:
১) ভারত মাতার মন্দির কমপ্লেক্স (সাত তলা এই মন্দির ভবনে ভারতমাতা মন্দির, শুর মন্দির, মাতৃ মন্দির, সন্ন্যাস স্থল মন্দির, শক্তি মন্দির, বিষ্ণু মন্দির, শিব মন্দির আছে), ২) পবন ধাম মন্দির, ৩) ইন্ডিয়া টেম্পল, ৪) শিবানন্দ ধাম টেম্পল, ৫) বৈষ্ণ দেবী মন্দির, ৬) চিত্রকূট আশ্রম মন্দির এবং ৭) শান্তিকুঞ্জ মন্দির। দেবভূমি হরিদ্বারে এছাড়াও আদী, প্রাচীন ইত্যাদি বিশেষণ সমন্বিত অসংখ্য মন্দির আছে ভক্তদের পরিক্রমার জন্য।
মনসা পাহাড় এবং চন্ডী পাহাড়ে মন্দির দর্শন
হরিদ্বার শহরটি গঙ্গার পাশে দুই পাহাড়ের মধ্যে অবস্থিত। একদিকে মনসা পাহাড় অন্য দিকে নীল পাহাড় বা চন্ডী পাহাড়। মনসা পাহাড়ের উপরে মনসা মন্দির এবং নীল পাহাড়ের উপরে সিদ্ধপীঠ চন্ডী মাতা মন্দির এবং হনুমানজীর মাতা অঞ্জলী দেবীর মন্দির আছে। দুটো পাহাড়ের উপরে ওঠার জন্য সিড়ির পাশাপাশি রোপওয়ে সার্ভিসও আছে। মনসা পাহাড়ে রোপওয়ে ওঠা নামা তারপর চন্ডী পাহাড় গাড়িতে নিয়ে যাওয়া এবং চন্ডী (নীল) পাহাড় রোপওয়েতে ওঠা নামা পুরো প্যাকেজ এক একজনের ৩৮৪ টাকা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রোপওয়ে সার্ভিস খোলা থাকে।
আমি প্রথম বার যখন হরিদ্বার যাই- হেটেই উঠেছিলাম মনসা পাহাড়ে। পরের বার তপতীর সাথে রোপওয়ের পথ ধরেছিলাম। ওই মনসা পাহাড়ের চূড়া থেকে স্বচ্ছ সলিলা গঙ্গা, হরকি পৌরী ঘাটসহ পুরো হরিদ্বার শহরকে দেখতে অপূর্ব মায়াবী রঙের তুলিতে আঁকা চিত্রপট মনে হয়।
আধ্যাত্মিক গুরুত্ব ও কৃম্ভমেলা
‘হরিদ্বার’ শব্দের অর্থ—“হর (শিব)-এর দ্বার” অথবা বৈষ্ণবদের মতে “হরী (বিষ্ণু)-এর দ্বার”। পুরাণ মতে, গঙ্গা দেবী স্বর্গ থেকে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন এই দেবভূমিতে। তাঁর প্রবল জলধারার বিধ্বংসী তাণ্ডব প্রসমিত করতে ধরনীর রক্ষাকর্তা শিব তাঁর জটায় গঙ্গাকে জড়িয়ে সমতলে মুক্ত করেন। এটি সেই স্থান যেখানে হিমালয় থেকে নেমে আসা মুক্ত-গঙ্গা সমতলে প্রবেশ করে। ফলে ভৌগোলিক ও আধ্যাত্মিক দুই দিক থেকেই এ স্থানটির গুরুত্ব অপরিসীম। হরিদ্বার বা হরদ্বারকে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে সপ্তপুরী নামে পরিচিত- সাতটি পবিত্রতম স্থানের মধ্যে একটি। বিশ্বাস করা হয়- হরিদ্বারে স্নান করলে মোক্ষ লাভের পথ উন্মুক্ত হয়।
ব্রহ্মকুণ্ড ও কৃম্ভমেলা: পুরাণ মতে সমুদ্র মন্থনে অমরত্বের সুধা অমৃত (যা অমরত্ব প্রদান করে) উঠে আসে। দেব-দানবের মধ্যে অমৃতের কলস নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে অসুরদের থেকে লুকাতে গিয়ে অমৃতের কয়েক ফোঁটা ছিটকে পড়ে হরিদ্বার, উজ্জয়িনী, নাশিক এবং প্রয়াগরাজ (এলাহাবাদ)- এই চারটি স্থানে। বিশ্বাস করা হয়, মহাজাগতিক পাখি গরুড় অমৃতের কলস বহন করার সময় দুর্ঘটনাক্রমে ওই অমৃত ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই থেকে হিরদ্বারসহ এচারটি স্থানে অনুষ্ঠিত হয় মহাপর্ব- কুম্ভমেলা।
প্রতি ১২ বছরে একবার হরিদ্বারে পূর্ণকুম্ভ এবং ৬ বছর অন্তর অর্ধকুম্ভ পালিত হয়। হরিদ্বার কুম্ভ মেলা চলাকালীন, লক্ষ লক্ষ তীর্থযাত্রী, ভক্ত এবং পর্যটকরা মোক্ষ অর্জনের জন্য এবং তাদের পাপ-স্খালন করার জন্য গঙ্গা নদীর তীরে ধর্মীয় স্নান করতে হরিদ্বারে জমায়েত হয়।
ব্রহ্মকুণ্ড: ব্রহ্মকুণ্ড হচ্ছে সেই জায়গা, যেখানে অমৃত পড়েছিল। বিশ্বাস করা হয়, এটি ‘হর কি পৌরি’তে অবস্থিত (আক্ষরিক অর্থে, “প্রভুর পদবিন্যাস”)। সে কারণে হর কি পৌরিঘাট হরিদ্বারের সবচেয়ে পবিত্র ঘাট হিসাবে বিবেচিত হয়।
হরিদ্বারের ভ্রমণ পরিকল্পনা
হরিদ্বার যেহেতু গাড়োয়াল হিমালয়ের যে কোনো জায়গা ভ্রমণের বেস পয়েন্ট; তাই যে কোনো ট্রিপের শুরু বা শেষের একদিন হরিদ্বারের জন্য বরাদ্দ থাকা ভাল। প্রকৃত পক্ষে হরিদ্বার ঘুরতে নুন্যতম দুইটি দিন লাগবেই যাওয়া আসা বাদে। তবে পুণ্যার্থী বা পর্যটক হিসেবে যিনি বা যাঁরাই হরিদ্বারে আসছেন দু’টি দিনের জন্য- ফলো করতে পারেন নীচের ভ্রমণসূচি।
- প্রথম দিন: সকালে ব্রেকফাস্ট করে রোপওয়ে সার্ভিসে মনসা এবং চন্ডী দুই পাহাড়ে দুই মন্দির দর্শন করুন এবং গঙ্গা স্নান করে দুপুরে লাঞ্চ সেরে নিন। এরপর বিকেল বেলায় হর কি পৌরি ঘাটে গিয়ে সন্ধ্যা আরতি দেখুন। তারপর হরিদ্বারের বাজার ঘুরুন, স্থানীয় লস্যি, চাট ইত্যাদির স্বাদ নিতে পারেন।
- দ্বিতীয় দিন: আজ সারাদিন হরিদ্বারের (সম্ভব হলে কঙ্খল) প্রধান প্রধান মন্দির সমূহ দর্শন করুন। সাথে রামদেব বাবার পতঞ্জলি আশ্রম দেখুন। বিকেলের দিকে ফিরে আর একবার হর কি পৌরি ঘাটের সন্ধ্যা আরতি উপভোগ করুন। হাতে আর একদিন সময় থাকলে হরিদ্বার থেকে ঋষিকেস বা দেরাদুন যাওয়ার রাস্তায় ১০ কিমি দূরের ‘রাজাজি জাতীয় পার্ক’ ঘুরে নিন। তারপর ঋষিকেস ঘুরে ফিরে আসুন হরিদ্বারে।
- বাড়িফেরা: হরিদ্বার থেকে ট্রেন বা বাস ধরুন বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে। যাঁরা প্লেন ধরবেন, তারা ঋষিকেশ থেকে সোজা চলে যান দেরাদুন। তারপর জলি গ্রান্ট বিমানবন্দর থেকে প্লেনে চাপুন ঠিক সময়ে।
হরিদ্বার ভ্রমণের সেরা সময়
হরিদ্বার পরিদর্শনের সেরা সময় হল ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল এবং আগস্ট থেকে অক্টোবর মাস। এ সময় হরিদ্বার ও আশেপাশের ভ্রমণকেন্দ্রর আবহাওয়া একদম মনোরম থাকে। অ্যাডভান্সার -প্রিয় পর্যটকদের জন্য জিপ-লাইনং ও রিভার-র্যাপটিং ইত্যাদি বাইরের ক্রিয়াকলাপ চলমান থাকে। এ সময় দর্শনীয় স্থানগুলি ভ্রমণের জন্য উপযুক্ত থাকে। তবে হরিদ্বার তীর্থযাত্রী, পূণ্যার্থী ও পর্যটকদের জন্য সারা বছরই নিরাপদ ভ্রমণের উপযোগী থাকে। উৎসবের মৌসুমে পর্যটকের চাপ বেড়ে গেলে হরিদ্বারের সবকিছুর মূল্য বেড়ে যায়।
হরিদ্বারের যাতায়াত :
ট্রেন: কলকাতার হাওড়া স্টেশন থেকে হরিদ্বার সরাসরি ট্রেনে যাওয়া যায়। হাওড়া থেকে হরিদ্বার যাওয়ার জন্য জনপ্রিয় ট্রেনগুলো হলো- উপাসনা এক্সপ্রেস (১২৩২৭), কুম্ভ এক্সপ্রেস (১২৩৬৯) এবং দুন এক্সপ্রেস (১৩০০৯)। এছাড়া অমৃতসরগামী হিমগিরি এক্সপ্রেস (১২৩৩১)ও হরিদ্বারে থামে। তবে দিল্লি হয়ে গেলে অনেক বেশি ট্রেন পাওয়া যায়। হাওড়া স্টেশন থেকে হরিদ্বার পৌঁছাতে সময় লাগে মোটামুটি প্রায় ২৬ থেকে ২৮ ঘণ্টা।
হাওড়া থেকে যে দিন যে যে হরিদ্বরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়- ১) ১৩০০৯-দুন এক্সপ্রেস: প্রতিদিন সময় রাত ৮.২৫ মিনিটে ছাড়ে, ২) ১২৩২৭-উপাসনা এক্সপ্রেস : প্রতি মঙ্গল ও শুক্রবার দুপুর ১ টায় ছাড়ে, ১২৩৬৯-কুম্ভ এক্সপ্রেস : প্রতি সোম, বুধ, বৃহস্পতি, শনি ও রবিবার দুপুর ১ টায় ছাড়ে।
বাস/গাড়ী: কলকাতা থেকে সরাসরি গাড়ীতে হরিদ্বার যাওয়া বেশ দীর্ঘ যাত্রা (প্রায় ১৪০০+ কিমি)। সবচেয়ে সুবিধাজনক উপায় হলো কলকাতা থেকে দিল্লি বা বেনারস পর্যন্ত বাসে গিয়ে, সেখান থেকে হরিদ্বারের বাস নেওয়া। দিল্লি (কিশ্মীর গেট) থেকে হরিদ্বারের জন্য ঘনঘন এসি/নন-এসি বাস (যেমন- লক্ষ্মী হলিডেজ, জিংবাস) পাওয়া যায়। তাই সরাসরি গাড়ী বা বাসের চেয়ে ট্রেনে হরিদ্বার যাওয়া বেশি আরামদায়ক।
বিমান: কলকাতা, মুম্বাই বা দিল্লি থেকে বিমানে উত্তরাখণ্ডের রাজধানী দেরাদুন পৌঁছে সেখান থেকে ট্রেন বা গাড়িতে সহজে হরিদ্বার যাওয়া যায়।
বাংলাদেশ থেকে: বাংলাদেশের তীর্থযাত্রী-পূণ্যার্থী অথবা পর্যটক ভারতীয় তীর্থ-ভিসা বা ট্যুরিস্ট-ভিসা নিয়ে ঢাকা থেকে ট্রেন বা বাসে কোলকাতা পৌছুতে হবে। তারপর কোলকাতা থেকে ট্রেন, বাস বা বিমানে হরিদ্বার। যাঁরা বিমানে যেতে চান, তাঁদের ঢাকা থেকে প্রথমে কোলকাতা বা দিল্লী পৌছাতে হবে। তারপর সেখান থেকে সুবিধামত পথে হরিদ্বার।
হরিদ্বারের থাকা খাওয়া:
হরিদ্বারে হোটেলের অভাব নেই। চারিদিকে হোটেল, ধর্মশালা, আশ্রমের কমতি নেই। বাজেট অনুযায়ী একটা পছন্দ করে নিন। হোটেলের নাম, ওয়েবসাইট, ফোন নাম্বার গুগুল সার্চ করলেই চলে আসবে। কম বাজেটে পরিবার বা গ্রুপ-টুরের থাকার জন্য ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘ ও ভোলাগিরির আশ্রম খুব ভালো। আমরা ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের অতিথিশালায় পরমানন্দের অবস্থান করেছিলাম।
সমগ্র হরিদ্বারেই নিরামিষ খাওয়া। বাঙালী খাওয়া হোটেলে হোটেলে। ভাত, ডাল, সুক্ত, ঘি ভাত, দুই তিনরকম সবজি, পাঁপড়, চাটনী সহযোগে খাবার পাওয়া যাবে। বিশেষ ভাবে উল্লেখ দাদা বৌদির হোটেল (বিষ্ণুঘাটের ভোলাগিরি আশ্রমের বিপরীতে), মাসীর হোটেল। স্পেশাল থালি ১২০/-, নরমাল থালি ৬০/-। ভারত সেবাশ্রমে নামমাত্র মূল্যে বোজন পাওয়া যায়। খাওয়া মিল সিস্টেমে যত খুশি খাওয়া।
লেখক: পর্যটক ও প্রত্নতত্ত্ব গবেষক।









