সুন্দরবন উপকূলের পৃথক মন্ত্রণালয় দাবি। উন্নয়ন বঞ্চনার অভিযোগে সাতক্ষীরায় ২১ দফা
- আপডেট সময় : ১১:০২:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ২২ বার পঠিত

উন্নয়ন বঞ্চনা, জলবায়ু ঝুঁকি আর লাগাতার প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলকে বাঁচাতে পৃথক মন্ত্রণালয় ও বোর্ড গঠনের দাবি জানিয়েছে সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটি। একইসঙ্গে ২১ দফা দাবি বাস্তবায়নে জরুরি পদক্ষেপ ও আসন্ন বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের আহ্বান জানানো হয়েছে। শনিবার সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি তোলা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আহ্বায়ক এডভোকেট শেখ আজাদ হোসেন বেলাল বলেন, দেশের খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও উন্নয়নের দিক থেকে দীর্ঘদিন ধরেই পিছিয়ে রয়েছে সাতক্ষীরা। বছরে ৫ লক্ষাধিক টন ধান উৎপাদনের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ মাছ, চিংড়ি, দুধ, শাক-সবজি, আম, কুল ও মধু উৎপাদিত হয়। ভোমরা স্থলবন্দর থেকেও প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আসে।
তিনি বলেন, এত সম্ভাবনার পরও ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততার কারণে এই অঞ্চলের উন্নয়ন টেকসই হচ্ছে না। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সুপেয় পানির সংকট, কৃষিজমি হ্রাস ও কর্মসংস্থানের অভাব ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। ফলে মানুষ জীবিকার তাগিদে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.৩৩ শতাংশ হলেও সাতক্ষীরায় তা ০.৯০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। কর্মসংস্থানের অভাবে মানুষের এই স্থানান্তরই এর মূল কারণ। এতে শহরমুখী চাপ বাড়ছে, বাড়ছে অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ণ।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো একই নকশায় অবকাঠামো নির্মাণের ফলে দুর্যোগপ্রবণ সাতক্ষীরায় সেগুলো দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে একদিকে উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে সরকারি অর্থ অপচয় হচ্ছে। ২১ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, রেললাইন সংযোগ চালু, নতুন উপজেলা গঠন, ভোমরা স্থলবন্দর পূর্ণাঙ্গভাবে চালু, বসন্তপুর নৌবন্দর চালু, মেডিকেল কলেজ পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু, বিকল্প বাইপাস সড়ক নির্মাণ, শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা, বাস-ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ, সড়ক সংস্কার, আইটি সিটি স্থাপন, নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতা নিরসন এবং জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য আবাসন।
আলী নুর খান বাবুলের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ, শিক্ষাবিদ আব্দুল হামিদ, হেনরি সরদার, মাধব চন্দ্র দত্ত, আবুল হোসেন, স্বপন কুমার শীল, শেখ হারুন অর রশিদ ও সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জি প্রমুখ।









