কলেজে গিয়ে শিক্ষিকাকে জুতাপেটা করলেন বিএনপি নেতারা, অধ্যক্ষসহ আহত ৫।
ইসলামি জালসা ও মসজিদ উন্নয়নে চাঁদা দাবির অভিযোগ।
রাজশাহীর দুর্গাপূরে ইসলামি জালসা ও মসজিদ উন্নয়নে চাঁদা চাইতে কলেজে গিয়ে বাগ্বিতণ্ডা জড়িয়ে শিক্ষিকার থাপ্পড় খেয়েছেন এক বিএনপি নেতা। এ ঘটনায় তিনি ওই কলেজ শিক্ষিকাকে জুতাপেটা করেছেন। পরে বিএনপির নেতাকর্মীরা কলেজটিতে হামলা চালিয়ে ওই শিক্ষিকা ও অধ্যক্ষসহ ৫ শিক্ষককে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছেন। এ সময় কলেজে তারা ভাঙচুরও চালায়। বিএনপি নেতার সঙ্গে শিক্ষিকার মারপিটের এই ভিডিও সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার ইসলামী জালসার দাওয়াত কার্ড বিতরণ করতে দাউকান্দি সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাকের কক্ষে যান বিএনপির জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আকবর আলী (৪৫), ১ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি মো. এজদার (৪৫) ও ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি আফাজ উদ্দিনসহ (৪৫) দলীয় নেতাকর্মীরা। তারা স্থানীয় মসজিদের উন্নয়নে কিছু অনুদান বা চাঁদা দাবি করেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, এ সময় অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলার দৃশ্য পাশে থেকে ভিডিও করতে থাকেন ইংরেজির শিক্ষিকা আলিয়া খাতুন (৪০)। ভিডিও করতে নিষেধ করলে আলিয়া খাতুনের সঙ্গে তাদের বাকবিতন্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে আলিয়া খাতুন জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আকবর আলীকে নিজের বাড়ির কাজের লোক ছিল দাবি করে তার গালে থাপ্পড় মারেন। এ সময় বিএনপি নেতা আকবর আলী পায়ের স্যান্ডেল খুলে শিক্ষিকাকে জুতাপেটা করতে থাকেন। এক পর্যায়ে আলিয়ার চুল ধরে মাথা টেবিলের উপর রেখে পেটান।
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, পরে আলিয়া কক্ষের বাইরে বিএনপির মো. এজদার ও ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি আফাজ উদ্দিনসহ কয়েকজনকে মারপিট করতে থাকেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথম দফার এই মারামারির পর বিএনপি নেতা আকবরের নেতৃত্বে ৪০ থেকে ৫০ জন নেতাকর্মী কিছুক্ষণ পর আবারও কলেজে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক ও আলিয়াকে মারধর করে রক্তাক্ত জখম করে চলে যান। এতে অন্তত ৫ জন শিক্ষক আহত হন। গুরুতর আহত আব্দুর রাজ্জাক ও আলিয়াকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শিক্ষকরা জানান, হামলার সময় কলেজে ডিগ্রি পরীক্ষা চলছিল। ৪০ থেকে ৫০ জন বিএনপির নেতাকর্মী ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে এই হামলা করে। তারা কলেজে ভাঙচুর চালায়। হামলার সময় পুলিশ উপস্থিত থাকলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
দুর্গাপুর থানার ওসি পঞ্চনন্দ সরকার বলেন, ‘তারা জালসার দাওয়াত করতে গিয়েছিল। পরে বাকবিতণ্ডায় মারামারি হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। অভিযোগও আসেনি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’