সাতক্ষীরা ১০:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পুলিশি পাহারায় পিরোজপুরে মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন সম্পন্ন রাজশাহীতে কলেজে ঢুকে শিক্ষককে জুতাপেটা বিএনপি নেতার সুন্দরবন উপকূলের পৃথক মন্ত্রণালয় দাবি। উন্নয়ন বঞ্চনার অভিযোগে সাতক্ষীরায় ২১ দফা গঙ্গাতীর্থ হরিদ্বারের অমৃতকথা – নিত্যানন্দ সরকার আজ ভয়াল ২৫ মার্চ, গণহত্যা দিবস! সাতক্ষীরায় জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে কলেজ পর্যায়ে ঝাউডাঙ্গা কলেজ শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত জেনেভায় প্রবীনদের অধিকার সংক্রান্ত ওয়ার্কিং গ্রপের সভায় অধ্যক্ষ আশেক-ই-এলাহী বাকাশিবোতে শর্টকোর্স সুরক্ষা কমিটি গঠিত। বিদেশি কোম্পানিকে বন্দর ব্যবস্থাপনার ইজারা দেওয়ার ঝুঁকি সমূহ জম্মু-কাশ্মীরে পৃথিবীর উচ্চতম রেলসেতু চেনাব ব্রীজ উদ্বোধিত

পুলিশি পাহারায় পিরোজপুরে মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন সম্পন্ন

পিসিবার্তা ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৯:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পঠিত

Freedom fighter Manik Pashari

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সাঈদীর মামলার বাদী মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনে
জামায়াতের বাধা
, ‘গোপনে’ গার্ড অব অনার

পিরোজপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর (৮৭) মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। পরে স্থানীয় প্রশাসন ‘গোপনে’ গার্ড অব অনার শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।

মানিক পশারী পিরোজপুর সদরের শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পিরোজপুর-১ আসনের প্রয়াত সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ছিলেন।

পরিবার জানায়, শনিবার সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায় মেয়ে বাড়িতে মানিক পশারীর মৃত্যু হয়। পরে গার্ড অব অনার ও মরদেহ দাফনের জন্য পিরোজপুরে আনা হয়। দুপুরে পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে গার্ড অব অনার দেওয়ার জন্য মরদেহ নিলে, তাদের বাধা দেওয়া হয় তাদের। পরে বিকেল ৫টার দিকে পুলিশ লাইনসের ভেতরে গার্ড অব অনার দিয়ে মরদেহ হস্তান্তর করে প্রশাসন। সদর থানার ওসি শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মানিক পশারীর মরদেহে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’

মরহুমের মেয়ের জামাই ফারুক হোসেন বলেন, ‘সকাল ১০টার দিকে আমার শ্বশুর মারা যান। দুপুর ১২টায় আমরা পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আসলে, তিনি গার্ড অব অনার দেওয়ার কথা বলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দাঁড় করিয়ে রাখেন।’ তিনি বলেন, ‘উনি (শ্বশুর) একজন গেজেটেড মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। একটি সাধারণ অ্যাম্বুলেন্সে কোনো বরফ কিংবা চা পাতা ছাড়াই ৪-৫ ঘণ্টা রাখার পর কোনোমতে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এরপর আমাদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। মরদেহ দাফনের দায়িত্ব ইউএনও নেননি। এখনো (রাত পৌনে ৯টা পর্যন্ত) আমরা মরদেহ নিয়ে পুলিশ লাইনসে রয়েছি।’

মরদেহ দাফনে বাধার বিষয়ে পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘মানিক পশারী ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তাঁকে কোনোভাবেই গার্ড অনার দিতে দেওয়া হবে না। শুধু তাই নয়, পিরোজপুরের মাটিতে মানিক পশারীকে কবর দিতেও দেব না।’

জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর থেকেই মানিক পশারী পলাতক ছিলেন। তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ে বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। দুই মাস আগে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর ২৪ অক্টোবর ২০২৬, শনিবার সকালে তিনি (বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী) মৃত্যুবরণ করেন। মারা যান ।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

পুলিশি পাহারায় পিরোজপুরে মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন সম্পন্ন

আপডেট সময় : ০৮:৫৯:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

সাঈদীর মামলার বাদী মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনে
জামায়াতের বাধা
, ‘গোপনে’ গার্ড অব অনার

পিরোজপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর (৮৭) মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। পরে স্থানীয় প্রশাসন ‘গোপনে’ গার্ড অব অনার শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।

মানিক পশারী পিরোজপুর সদরের শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পিরোজপুর-১ আসনের প্রয়াত সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ছিলেন।

পরিবার জানায়, শনিবার সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায় মেয়ে বাড়িতে মানিক পশারীর মৃত্যু হয়। পরে গার্ড অব অনার ও মরদেহ দাফনের জন্য পিরোজপুরে আনা হয়। দুপুরে পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে গার্ড অব অনার দেওয়ার জন্য মরদেহ নিলে, তাদের বাধা দেওয়া হয় তাদের। পরে বিকেল ৫টার দিকে পুলিশ লাইনসের ভেতরে গার্ড অব অনার দিয়ে মরদেহ হস্তান্তর করে প্রশাসন। সদর থানার ওসি শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মানিক পশারীর মরদেহে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’

মরহুমের মেয়ের জামাই ফারুক হোসেন বলেন, ‘সকাল ১০টার দিকে আমার শ্বশুর মারা যান। দুপুর ১২টায় আমরা পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আসলে, তিনি গার্ড অব অনার দেওয়ার কথা বলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দাঁড় করিয়ে রাখেন।’ তিনি বলেন, ‘উনি (শ্বশুর) একজন গেজেটেড মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। একটি সাধারণ অ্যাম্বুলেন্সে কোনো বরফ কিংবা চা পাতা ছাড়াই ৪-৫ ঘণ্টা রাখার পর কোনোমতে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এরপর আমাদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। মরদেহ দাফনের দায়িত্ব ইউএনও নেননি। এখনো (রাত পৌনে ৯টা পর্যন্ত) আমরা মরদেহ নিয়ে পুলিশ লাইনসে রয়েছি।’

মরদেহ দাফনে বাধার বিষয়ে পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘মানিক পশারী ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তাঁকে কোনোভাবেই গার্ড অনার দিতে দেওয়া হবে না। শুধু তাই নয়, পিরোজপুরের মাটিতে মানিক পশারীকে কবর দিতেও দেব না।’

জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর থেকেই মানিক পশারী পলাতক ছিলেন। তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ে বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। দুই মাস আগে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর ২৪ অক্টোবর ২০২৬, শনিবার সকালে তিনি (বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী) মৃত্যুবরণ করেন। মারা যান ।